• শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন

এআই-অপতথ্যের মহামারি

থিম বিক্রয় / ৯ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ন
এআই-অপতথ্যের মহামারি
প্রতিকী ছবি

10

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভার্চুয়াল জগতে যে ‘এআই-অপতথ্যের মহামারি’ শুরু হয়েছে, তা শুধু উদ্বেগজনক নয়, বরং সুস্থ গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এক অশনিসংকেত। শুক্রবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাস্তব রাজনীতির চেয়ে বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভার্চুয়াল জগৎ। এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও, বিকৃত ছবি ও মিথ্যা বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছেয়ে গেছে। এসব বিকৃত ছবি, ভুয়া ভিডিও এবং মিথ্যা বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি নির্বাচনি পরিবেশকে বিষিয়ে তুলছে।

ইউএনডিপির ই-মনিটর প্লাস প্ল্যাটফর্মের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর থেকে ৮৬ হাজারের বেশি এআই-নির্মিত কনটেন্ট শনাক্ত হওয়া প্রমাণ করে অপপ্রচারের মাত্রা কতটা ভয়াবহ। প্রযুক্তির এই অপব্যবহার এখন আর শুধু কারিগরি উৎকর্ষের বিষয় নয়, এটি একটি সুপরিকল্পিত ‘ডিজিটাল সন্ত্রাস’ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

এসব কনটেন্টের একটি বড় অংশই হিংসাত্মক ও রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক। পরিতাপের বিষয় হলো, এসব বিদ্বেষমূলক কনটেন্টের সিংহভাগই ফেসবুকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে সরাসরি প্রভাবিত করার সক্ষমতা রাখে।

খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলা এবং তা বন্ধ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়া নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কারিগরি সক্ষমতা ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সীমাবদ্ধতাকেই প্রকাশ করে। ইসির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চিঠি দেওয়ার মতো কিছু রুটিন কাজ করা হলেও পরিস্থিতির ভয়াবহতার তুলনায় তা অত্যন্ত অপ্রতুল। নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, এআই ব্যবহার করে প্রার্থীর চরিত্র হনন বা গুজব ছড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু হাজার হাজার কনটেন্টের বিপরীতে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অভাব অপরাধীদের যে আরও উৎসাহিত করছে, তা বলাই বাহুল্য। আমরা মনে করি, শুধু ‘তদন্ত চলছে’ বা ‘চিঠি দেওয়া হয়েছে’-এ ধরনের মন্তব্য করে দায় এড়ানোর সুযোগ এখন আর নেই।

এমন অবস্থায় এই ডিজিটাল অপতৎপরতা রুখতে নির্বাচন কমিশনকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বিটিআরসি, এনটিএমসি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ইউনিটের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ‘র‌্যাপিড রেসপন্স সেল’ গঠন করাও এখন সময়ের দাবি, যারা ২৪ ঘণ্টা আপত্তিকর কনটেন্ট শনাক্ত করে দ্রুত অপসারণ নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি মেটা বা এক্সের মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মগুলোকে বাংলাদেশের নির্বাচনের সংবেদনশীলতা বুঝতে বাধ্য করতে হবে এবং তাদের অ্যালগরিদম যেন কোনোভাবেই এআই-জেনারেটেড বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।

ভুলে গেলে চলবে না, নির্বাচন মানে শুধু ব্যালট পেপার আর ভোটকেন্দ্র নয়; এটি জনগণের আস্থার একটি প্রতিফলন। এআইর অপব্যবহারের মাধ্যমে সেই আস্থার মূলে যদি কুঠারাঘাত করা হয়, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা তাতে সংকটে পড়বে। ইসিকে মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তির এই দানবকে রুখতে না পারলে ডিজিটাল অপতথ্যের কাছে হার মানবে প্রকৃত জনমত। ভোটগ্রহণের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ইসি তার পূর্ণ প্রশাসনিক ও আইনি শক্তি প্রয়োগ করে এই ডিজিটাল নৈরাজ্য বন্ধে কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *