বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বিভিন্ন পোস্টে বলা হচ্ছে, দ্বীপটি বিদেশি শক্তির হাতে চলে যাচ্ছে বা সেখানে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। বিশেষ করে, সরকার যখন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য পর্যটন সীমিত করেছে, তখন এই গুজব আরও তীব্র হয়েছে।
তবে সরেজমিন পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব দাবি ভিত্তিহীন। সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিজিবি এবং পুলিশ নিয়মিত দ্বীপে দায়িত্ব পালন করছে এবং সেখানে কোনো অস্বাভাবিক সামরিক কার্যক্রম নেই।
দ্বীপে জনজীবন স্বাভাবিক। জেলেরা সমুদ্রে মাছ ধরছেন, কৃষিকাজ চলছে, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ও স্থানীয় দোকানগুলোতে পর্যটকদের জন্য ব্যস্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার পর্যটক দ্বীপ পরিদর্শন করছেন। স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন, কোনো বিদেশি বাহিনী দ্বীপে উপস্থিত নয়।
পর্যটন নিয়ন্ত্রণের কারণ সম্পূর্ণ পরিবেশ রক্ষা। সেন্টমার্টিন একটি ছোট প্রবাল দ্বীপ, যার প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। অতিরিক্ত পর্যটক চাপ, প্লাস্টিক দূষণ ও রাতের আলো-শব্দে জীববৈচিত্র্যের ওপর প্রভাব পড়ে। সরকার নতুন পরিবেশবান্ধব নীতি অনুযায়ী পর্যটক সংখ্যা সীমিত রেখেছে এবং রাতযাপন ও আলো-শব্দ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।
নৌবাহিনী দ্বীপ ও আশপাশের সমুদ্র এলাকায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে। রাডার ও নিয়মিত টহল মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা হচ্ছে। গত এক মাসে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ এবং বিপদগ্রস্ত মানুষ উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সেন্টমার্টিন ফোরওয়ার্ড বেইজের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম. মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, গুজবকারীরা বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর নৌ মহড়ার ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দ্বীপের নিরাপত্তা সম্পূর্ণ বাংলাদেশের হাতে রয়েছে এবং দ্বীপবাসীর জীবিকা ও পর্যটনের স্বাভাবিক কার্যক্রম কোনোভাবে প্রভাবিত হয়নি।
সারসংক্ষেপে, সেন্টমার্টিনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো গুজব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দ্বীপের নিরাপত্তা, জনজীবন এবং পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে।