• শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন

এস আলমের মামলা লড়তে সরকারের খরচ ঘণ্টায় দেড় লাখ টাকা

থিম বিক্রি / ১০ টাইম ভিউ
আপডেট সময়: শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৫১ অপরাহ্ন

10

আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে এস আলম গ্রুপের করা মামলা লড়তে ব্রিটিশ একটি ল ফার্ম নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই আইনি লড়াইয়ে সংশ্লিষ্ট ল ফার্মটিকে ঘণ্টায় এক হাজার ২৫০ মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে) ১ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ টাকা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে ল ফার্ম নিয়োগ ও অর্থ ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরবিট্রেশন মামলা নং-আইসিএসআইডি (কেস নম্বর-এআরবি/২৫/৫২) পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক ল ফার্ম নিয়োগ ও আইনি সেবা ক্রয়ের বৈঠকে একটি প্রস্তাব নিয়ে আসে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে ব্রিটিশ ল ফার্ম ‘হোয়াইট অ্যান্ড কেস এলএলপি’কে নিয়োগের অনুমোদন দেয়। ল ফার্মটি থেকে সেবা নেওয়ার জন্য ঘণ্টায় এক হাজার ২৫০ ডলার গুনতে হবে।

বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আপনারা জানেন অর্থপাচারের ব্যাপারে এস আলম বোধহয় একটা কেস করেছে লন্ডনে এবং চ্যালেঞ্জ করেছে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটলমেন্ট অফ ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটসে (আইসিএসআইডি)। লিগ্যাল ফাইট করার জন্য আমরা একজন লিগ্যাল লইয়ার এঙ্গেজ করবো। কারণ, এটি বহু টাকার ব্যাপার। এখানে আবার ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো অর্গানাইজেশনের অভিযোগ করেছে।

সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অর্থপাচারের ব্যাপারে এস আলমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আপনারা জানেন, কোনো দেশের সরকার বা কোম্পানি ব্যবসা-বাণিজ্যে বাধা দিলে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের আইসিএসআইডি আরবিট্রেশন করে। আরবিট্রেশন আমাদের নোটিশ দিয়েছে। এর জবাব দিতে হবে আমাদের এবং এটি খুব কমপ্লিকেটেড, সহজ তো না।

গত বছরের অক্টোবরে ওয়াশিংটনে অবস্থিত আইসিএসআইডিতে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ও তার পরিবারের আইনজীবীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সালিশি মামলার আবেদন জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়, অবৈধ অর্থ পাচারের অভিযোগে বাংলাদেশ সরকার যে সম্পদ জব্দ, বাজেয়াপ্ত ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে তাদের শত শত কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

সালিশি আবেদনে এস আলম পরিবার দাবি করেছে, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে তাদের লক্ষ্য করে ব্যাংক হিসাব জব্দ, সম্পদ বাজেয়াপ্ত, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ‘ভিত্তিহীন’ তদন্ত এবং ‘প্ররোচনামূলক মিডিয়া অভিযান’ পরিচালনা করছে। এসব পদক্ষেপকে তারা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির ‘পরিপন্থি’ বলে উল্লেখ করেছে।

এস আলম ও তার পরিবার সালিশি মামলা করেছে ২০০৪ সালের বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ চুক্তির আওতায়। নথি অনুযায়ী, এস আলম পরিবার ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে এবং ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব নেয়। বর্তমানে তারা সিঙ্গাপুরে বসবাস করছে।

এস আলম পরিবার দাবি করেছে, সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখে। একই সঙ্গে তারা বাংলাদেশের ১৯৮০ সালের বিদেশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগ আইনের অধীনেও সুরক্ষা দাবি করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *